তাজবীদ সহ কুরআন শিক্ষা

সহিহ মাখরাজ, গুন্নাহ ও তাজবীদের মৌলিক নিয়মাবলী শিখে বিশুদ্ধ কুরআন তেলাওয়াত করুন

আরবি ২৯টি হরফ পরিচয়

কুরআন সঠিক উচ্চারণে পড়ার প্রথম ধাপ হলো এই ২৯টি হরফের সঠিক রূপ ও উচ্চারণ চেনা।

ا আলিফ
ب বা
ت তা
ث ছা
ج জীম
ح হা
خ খা
د দাল
ذ যাল
ر রা
ز যা
س সীন
ش শীন
ص সোয়াদ
ض দোয়াদ
ط তোয়া
ظ জোয়া
ع ‘আইন
غ গাইন
ف ফা
ق ক্বাফ
ك কাফ
ل লাম
م মীম
ن নূন
و ওয়াও
هـ হা
ء হামযাহ
ي ইয়া

মাখরাজ (হরফ উচ্চারণের স্থান)

মাখরাজ অর্থ বের হওয়ার স্থান। আরবি ২৯টি হরফ মুখের ৫টি প্রধান অংশের ১৭টি নির্দিষ্ট স্থান থেকে উচ্চারিত হয়।

১. হলক বা কণ্ঠনালীর মাখরাজ (৬টি হরফ)

কণ্ঠনালীর নিম্নাংশ, মধ্যাংশ ও উপরিভাগ থেকে এই ৬টি হরফ উচ্চারিত হয়:

ء هـ - ع ح - غ خ
২. ঠোঁটের মাখরাজ (৪টি হরফ)

দুই ঠোঁটের শুকনো ও ভেজা অংশ থেকে উচ্চারিত হয়:

ف - ب م و
৩. জিহবার মূল ও গহ্বর (২টি হরফ)

জিহবার মূল তার বরোবর উপরের তালুর সাথে লাগিয়ে:

ق - ك
৪. জিহবার মধ্যভাগ (৩টি হরফ)

জিহবার মধ্যভাগ তার বরোবর উপরের তালুর সাথে লাগিয়ে:

ج ش ي

নূন সাকিন ও তানভীনের ৪টি নিয়ম

নূন সাকিন (نْ) বা তানভীন (ً ٍ ٌ) এর পর অন্য হরফ আসলে ৪ নিয়মে পড়তে হয়:

নূন সাকিন বা তানভীনের পর 'হুরূফে হলক্বী' (ء هـ ع ح غ خ) আসলে গুন্নাহ ছাড়া স্পষ্ট করে পড়তে হয়।
উদাহরণ: مَنْ آمَنَ (মান আমানা)

ইদগামের হরফ ৬টি: ي ر م ل و ن (ইয়ারমালূন)। পরবর্তী হরফের সাথে মিলিয়ে পড়তে হয়।
উদাহরণ: مَن يَّقُولُ (মায় ইয়াকূলু)

নূন সাকিন বা তানভীনের পর 'ب' (বা) আসলে নূন-কে 'م' (মীম) দিয়ে পরিবর্তন করে গুন্নাহর সাথে পড়তে হয়।
উদাহরণ: مِن بَعْدِ (মিম বা'দি)

ইখফার হরফ ১৫টি। নূন সাকিন বা তানভীনের পর এই হরফগুলো আসলে নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে গুন্নাহ সহ পড়তে হয়।
উদাহরণ: مِن قَبْلُ (মিঙ্ ক্বাবলু)

মাদ্দ (টেনে পড়ার নিয়ম)

মাদ্দ অর্থ টেনে পড়া। মাদ্দের আসল হরফ ৩টি: ا (আলিফ), و (ওয়াও), ي (ইয়া)

মাদ্দের প্রকার টানার পরিমাণ শর্ত/নিয়ম উদাহরণ
মাদ্দে আসলী (স্বাভাবিক) ১ আলিফ (১ সেকেন্ড) যবরের পর খালি আলিফ, পেশের পর জযমওয়ালা ওয়াও, বা যেরের পর জযমওয়ালা ইয়া থাকা। قَالَ - قِيلَ - يَقُولُ
মাদ্দে মুত্তাসিল (যুক্ত) ৩-৪ আলিফ একই শব্দে মাদ্দের হরফের পর হামযাহ (ء) আসলে। جَاءَ - جَيِيءَ
মাদ্দে মুনফাসিল (পৃথক) ৩-৪ আলিফ মাদ্দের হরফ এক শব্দে এবং পরবর্তী শব্দের শুরুতে হামযাহ (ء) আসলে। بِمَا أُنْزِلَ